শহরে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড সভাপতি সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের সমালোচনা করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে শহরের একটি পার্কের মিলনায়তনে আয়োজিত এই সম্মেলনে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিরোধী ছাত্রসংগঠনের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। তার ভাষায়, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের শিক্ষার্থীদের ওপর ‘হায়নার মতো লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে’, যা দেশের শিক্ষা পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। তিনি আরও বলেন, সরকার আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসনের পথে হাঁটতে চাইছে, তবে দেশের জনগণ তা মেনে নেবে না।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “দেশের মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে, কিন্তু আমরা আর রক্ত দিতে চাই না।” তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার গণতান্ত্রিক চর্চা থেকে সরে গিয়ে ফ্যাসিবাদী প্রবণতার দিকে এগোচ্ছে।
জামায়াত-শিবিরকে ‘গুপ্ত’ আখ্যা দেওয়ার সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “যারা আজ জামায়াত-শিবিরকে গুপ্ত বলে, তারাই দীর্ঘ ১৭ বছর বিদেশে লুকিয়ে ছিল।” তিনি দাবি করেন, জনগণ এখন বুঝতে পারছে প্রকৃতপক্ষে কারা আড়ালে থেকে রাজনীতি করেছে।
সংবিধান সংস্কার ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ সংলাপের মাধ্যমে একটি ঐকমত্য তৈরি হলেও কিছু দল গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে ভিন্নমত দিয়েছে। এতে জাতীয় ঐক্যের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট উপেক্ষা করা হলে মানুষ আবার রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। “আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, আমরা জানি কীভাবে আন্দোলন করতে হয়”—যোগ করেন তিনি।
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মোবারক হোসেন, আলী আজম মোহাম্মদ আবুবকর, মতিয়ার রহমান এবং আবু তালেবসহ জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সম্মেলনে বক্তারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার নিয়ে নানা মতামত তুলে ধরেন। আয়োজনটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।