ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে **মোজতবা খামেনি**কে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইরানের প্রভাবশালী সংস্থা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই এই নেতৃত্ব পরিবর্তন ইরানের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের ধারণা, এর মাধ্যমে তেহরানে কট্টরপন্থী নেতৃত্ব আরও শক্তভাবে ক্ষমতা ধরে রাখল।
আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মতে, মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগের এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর অবস্থান কার্যত অগ্রাহ্য করা হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে মোজতবা খামেনিকে ইরানের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র দাবি করেছে, চলমান সংঘাতের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। বর্তমানে সেই সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো অ্যালেক্স ভাতাঙ্কা বলেন, মোজতবা খামেনিকে ক্ষমতায় আনা আসলে পুরোনো রাজনৈতিক কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি।
তার মতে, এত বড় সামরিক অভিযান চালিয়ে একজন প্রবীণ নেতাকে সরানোর পর যদি তারই কট্টরপন্থী ছেলেকে ক্ষমতায় বসতে দেখা যায়, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ভিন্নমত দমন এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ জোরদার হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা **রয়টার্স**কে জানান, মোজতবার সামনে কঠোর অবস্থান নেওয়া ছাড়া তেমন কোনো বিকল্প নেই। যুদ্ধ শেষ হলেও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ নীতি আরও কঠোর হতে পারে।
এরই মধ্যে ইরানের অভ্যন্তরে কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা চলছে। ধসে পড়া অর্থনীতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং দারিদ্র্য বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি আগে থেকেই সংকটপূর্ণ ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক পল সালেম মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষমতায় আসা কোনো নেতার পক্ষেই দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হবে না। বরং ইরান আরও কঠোর নীতির দিকে এগোতে পারে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।