মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় মসজিদের বিদ্যুৎ চুরি ঠেকাতে গিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মসজিদের কোষাধ্যক্ষসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সোমবার (৪ মে) রাত প্রায় ৯টার দিকে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম শিমুলিয়া গ্রামের দিঘীরপাড় জামে মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে মসজিদের কোষাধ্যক্ষ শেখ মোশারফ হোসেন (৬২) ও মো. ইব্রাহিম (২৬) গুরুতর জখম হয়েছেন। এছাড়া অসিম আহমেদ সময় (৩২), সোহেল খান (৪৫), মো. শহিদুল্লাহ্ (৩০), রিটু (৪৫) এবং মুন্না (২৫) আহত হন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জিহাদ মজুমদার নামে এক ব্যবসায়ী মসজিদ কমিটির অনুমতি ছাড়াই গোপনে মসজিদের বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে নিজের দোকানে লাইন নিয়েছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে মসজিদের কোষাধ্যক্ষ বাধা দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়ে দুইজনকে কুপিয়ে গুরুতর জখমসহ আরও পাঁচজনকে আহত করেন।
ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। গুরুতর আহত দুজনকে সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, আর অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা কামাল মুকুট জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় আগে থেকেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে পরিচিত। তার উগ্র আচরণে গ্রামবাসী দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ। তিনি বলেন, মসজিদের মতো পবিত্র স্থান থেকেও বিদ্যুৎ চুরি করা এবং বাধা দিতে গিয়ে মুসল্লিদের ওপর হামলা চালানো অত্যন্ত নিন্দনীয়।
এ ঘটনায় আহত মোবারক হোসেন লৌহজং থানায় জিহাদ মজুমদারসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বোরহান উল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলায় ব্যবহৃত একটি ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত জিহাদ মজুমদার বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।