নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের পার্সা জেলায় একটি মসজিদে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেপাল প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় প্রতিবেশী দেশ ভারত নেপালের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সীমান্তবর্তী নেপালের একাধিক এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নেপালের পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিশেষ নজরদারি জোরদার করেছে।
পুলিশের বরাতে এনডিটিভি জানায়, ধানুষা জেলার কমলা মিউনিসিপ্যালিটির সাখুয়া মারান এলাকায় একটি মসজিদে একদল দুষ্কৃতিকারী ভাঙচুর চালায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে পার্সা জেলার বীরগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ধানুষা জেলার ওই ঘটনার প্রতিবাদে বীরগঞ্জে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান। শুরুতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং একটি স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে ভাঙচুর চালায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অন্তত ছয় রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে বলে জানানো হয়েছে। এতে বীরগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় সোমবার বিকেলে জেলার কিছু অংশে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্ষোভ চলতে থাকলে কর্তৃপক্ষ কারফিউ জারি করে। প্রাথমিকভাবে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়। পরে পরিস্থিতির আরও অবনতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় কারফিউ বাড়িয়ে মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত করা হয়।
এদিকে নেপালে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ভারত-নেপাল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তের দায়িত্বে থাকা ভারতের সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) পুরো সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া সাধারণ নাগরিকদের সব ধরনের সীমান্ত যাতায়াত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
ভারত-নেপাল সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ মৈত্রী ব্রিজেও বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত পারাপারকারী প্রত্যেক ব্যক্তির কড়া তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে সেখানে ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে।
নেপাল প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।