ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ-ঝিনাইদহ সদর একাংশ) আসনের আওয়ামী লীগের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। তবে এখনো তার মরদেহ বা খণ্ডাংশ হাতে পায়নি পরিবার। ফলে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী জানাজা ও দাফন কার্যক্রমও সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
২০২৪ সালের ১২ মে চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার পর কলকাতার নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে তিনি হত্যার শিকার হন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। ওই সময় বাংলাদেশ ও ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, একটি চক্র তাকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে গুম করার চেষ্টা করে।
ঘটনার তদন্তে বাংলাদেশ পুলিশের ডিবি সদস্যরা ভারতে যান। পরে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের অংশ হিসেবে মরদেহের কিছু অংশ উদ্ধারের তথ্য জানানো হয়। একই সময়ে ভারতের পুলিশ বাংলাদেশি কসাই জেহাদসহ তিনজনকে আটক করে। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে কলকাতার অদূরে একটি পুকুর থেকে কয়েকটি হাড়ের টুকরা উদ্ধার করা হয়।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, উদ্ধার হওয়া হাড়ের খণ্ড ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। কিন্তু ঘটনার দুই বছর পার হলেও চূড়ান্ত ফরেনসিক রিপোর্ট এখনো পায়নি পরিবার।
এমপি আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন বলেন, তার বাবার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর তারা গণমাধ্যমের মাধ্যমেই জানতে পেরেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন সাবেক এমপি হত্যাকাণ্ড মামলার মূল আসামিরা কীভাবে জামিন পায়? আমরা কি বাবার হত্যার বিচার পাবো?”
তিনি আরও বলেন, ভারতের প্রশাসনের আহ্বানে তারা ডিএনএ ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছেন। কিন্তু এখনো কোনো চূড়ান্ত রিপোর্ট বা মরদেহের খণ্ডাংশ হাতে পাননি।
ডরিনের ভাষ্য, মরদেহের অংশ না পাওয়ায় ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা যায়নি। পাশাপাশি মৃত্যু সনদ না থাকায় পরিবার বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজেও জটিলতার মুখে পড়ছে।
পরিবারের দাবি, দ্রুত ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশ এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।