হরমুজ প্রণালির আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এমকিউ–৪সি ট্রাইটন ড্রোনটি বিধ্বস্ত হয়েছে, নাকি কোনো পক্ষের হামলায় ভূপাতিত করা হয়েছে—তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাত্র দুই দিনের মাথায় এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোনটি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা নজরদারি কার্যক্রম চালানোর পর ইতালির নেভাল এয়ার স্টেশন সিগোনেলায় ফেরার পথে ছিল। উড্ডয়নের একপর্যায়ে এটি হঠাৎ করে ‘কোড ৭৭০০’ সংকেত পাঠায়, যা সাধারণত জরুরি পরিস্থিতির ইঙ্গিত বহন করে। এরপর ধীরে ধীরে ড্রোনটি উচ্চতা হারাতে শুরু করে এবং রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রোনটি নিখোঁজ হওয়ার আগে দ্রুত উচ্চতা হারাচ্ছিল, যা যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা বাহ্যিক আঘাত—দুটোরই ইঙ্গিত হতে পারে। এ সময় এটি ইরানের আকাশসীমার দিকেও কিছুটা অগ্রসর হয়েছিল বলে জানা গেছে। ফলে ঘটনাটি ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ঘটনাটি ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছে। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার কথা ছিল। কিন্তু এই ড্রোন নিখোঁজের ঘটনায় পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
উল্লেখ্য, এমকিউ–৪সি ট্রাইটন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন, যার মূল্য ২০ কোটি ডলারেরও বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্র অঞ্চলে নজরদারি চালাতে সক্ষম এই ড্রোনটি প্রায়ই পি-৮এ পসিডন টহল বিমানের সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তত্ত্বাবধানে উপসাগরীয় অঞ্চলে এ ধরনের ড্রোন নিয়মিত মোতায়েন থাকে, যা সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে ড্রোনটির নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি এখনো প্রকাশ না হলেও, আন্তর্জাতিক মহল বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।