মুন্সীগঞ্জে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযুক্ত ঘুষ গ্রহণকারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রশাসনকে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন জেলার সংবাদকর্মীরা।
রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের আয়োজনে প্রেসক্লাবের সামনে প্রধান সড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীরা জানান, সাত কর্মদিবসের মধ্যে ঘুষ গ্রহণকারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় মুন্সীগঞ্জের প্রশাসন, সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ সব সরকারি দপ্তরের সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করে দেওয়ার কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টেনোগ্রাফার মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের ভিডিওসহ একটি সংবাদ প্রকাশ করেন এনটিভির মুন্সীগঞ্জের স্টাফ রিপোর্টার এবং স্থানীয় দৈনিক মুন্সীগঞ্জের সময় পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মইনুদ্দিন আহম্মেদ সুমন ও দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিনিধি পত্রিকার মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ। এই সংবাদ প্রকাশের পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ওই স্টেনোটাইপিস্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী সিভিল সার্জন কার্যালয়কে ‘ঘুষের আখড়ায়’ পরিণত করেছেন। ঘুষ নেওয়ার ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পরও প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপু বলেন, “সাত দিনের মধ্যে দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো। প্রয়োজনে জেলার সব সরকারি দপ্তরের সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করে দেওয়া হবে।”
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন আতিকুর রহমান টিপু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলজার হোসেন, নির্বাহী সদস্য মাহাবুব আলম লিটন, সাবেক সভাপতি কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন হায়দার জনি, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিবুল হাসান জুয়েল, এটিএন নিউজের ভবতোশ চৌধুরী নুপুরসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সাংবাদিকরা জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। দ্রুত এই মামলা প্রত্যাহার এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।