নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় তিতাস গ্যাসের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় ঝুটের গুদামে এ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন এবং আশপাশের কয়েকটি বাড়ির দরজা-জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আরমান মিয়ার মালিকানাধীন ভবনটির নিচতলায় ঝুটের গুদাম ছিল। ইফতারের কিছুক্ষণ পর হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ভবনের নিচতলার দেয়াল ও জানালার অংশ ধসে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের কয়েকটি বাসার দরজা-জানালাও ভেঙে যায়।
বিস্ফোরণে ঝুট ব্যবসায়ী শিপন, তার কর্মচারী ছগির এবং ভবনের ভাড়াটিয়া লিটন আহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয়রা হাসপাতালে পাঠান। গুরুতর আহত শিপন ও ছগিরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি বর্ণনা করে স্থানীয় বাসিন্দা নুরুজ্জামান বলেন, ইফতারের পরপরই একটি বিকট শব্দ শুনতে পান তারা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে এবং আরেকজনকে দেয়ালের নিচ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও তদন্ত কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। নারায়ণগঞ্জ মণ্ডলপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহজাহান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিতাস গ্যাসের পাইপলাইনে লিকেজ থেকে গুদামের ভেতরে গ্যাস জমে ছিল। পরে সেই জমে থাকা গ্যাস থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এখনো ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, গ্যাস লিকেজ থেকেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত গ্যাসলাইন পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।