বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা, মিথ্যা নাশকতার অভিযোগ এবং রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগে আলোচিত জীবননগর থানার সাবেক ওসি এস এম জাবীদ হাসান বর্তমানে ঝিনাইদহ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-তে কর্মরত রয়েছেন। তার এই পদায়নকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানা থেকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানায় বদলি হন এস এম জাবীদ হাসান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ধরপাকড় ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের দাবি, ক্ষমতাসীন দলের আস্থাভাজন হতে গিয়ে নিরীহ রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, জীবননগরে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক রাজনৈতিক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন জাবীদ হাসান। অভিযোগ রয়েছে, মামলার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হতো। অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করেই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীদের।
বিএনপির স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, “আইনের শাসন নয়, রাজনৈতিক নির্দেশই ছিল তৎকালীন পুলিশের কর্মকাণ্ডের মূল ভিত্তি।” তারা দাবি করেন, নিরীহ কর্মীদেরও পরিকল্পিতভাবে নাশকতা ও মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
২০২৩ সালের ৩ নভেম্বর বিশেষ অভিযানের নামে জীবননগর থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও উথলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালামকে বাড়ি থেকে তুলে এনে নাশকতা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। এর একদিন পর, ৪ নভেম্বর একইভাবে জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডাবলুকে গ্রেপ্তার করে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে মামলা দেওয়া হয়।
এ ধরনের শত শত মামলার কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এস এম জাবীদ হাসানকে চুয়াডাঙ্গা জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে নির্বাচিত করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের অক্টোবরে তাকে জীবননগর থানা থেকে বদলি করা হয়। বর্তমানে তিনি ঝিনাইদহ পিবিআইতে কর্মরত রয়েছেন।
ঝিনাইদহ জেলার সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “জীবননগরে যেমন আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছিল ওসি জাবীদ, ঝিনাইদহে যেন তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে—এটাই আমাদের বড় উদ্বেগ।” তারা দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক ওসি এস এম জাবীদ হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে ঝিনাইদহ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার গাজী রবিউল ইসলাম বলেন, “তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”