রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পবিত্র মাহে রমজানকে আত্মশুদ্ধির মাস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ মাসে মানুষের ভোগান্তি বাড়ানো নয়, বরং সহমর্মিতা ও সংযমের চর্চা হওয়া উচিত।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। ভাষণের শুরুতেই তিনি দেশবাসীকে পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, “আগামীকাল থেকেই সারাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। আমরা যদি আত্মশুদ্ধির মর্মার্থ উপলব্ধি করি, তাহলে এই মাসে মানুষের কষ্ট বাড়ার কথা নয়।”
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, রমজানকে ঘিরে কিছু ব্যবসায়ীর মধ্যে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “রমজানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এই মাসটিকে আপনারা মুনাফা লাভের মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করবেন না। দ্রব্যমূল্য যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়—এ বিষয়ে সতর্ক থাকবেন।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটের পতন ঘটিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েই বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, সরকার সব ক্ষেত্রে অনাচার ও অনিয়মের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র, মাঝারি কিংবা বড়—সব ধরনের ব্যবসায়ীর প্রতিই সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সহজ ও ইতিবাচক। সরকার চায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে।
তিনি আরও জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত কিংবা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ প্রয়োজন—এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের যেকোনো পরামর্শ ও অভিযোগ শুনতে সরকার প্রস্তুত।
ভাষণের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ক্রেতা, বিক্রেতা, গ্রহীতা—এই সরকার সবার সরকার। আপনারাই ভোটের মাধ্যমে এই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারাই এই সরকারের শক্তি।”
রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের এই বার্তা ইতোমধ্যে ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।