দেশের আবহাওয়ায় স্বস্তির বার্তা নিয়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বছরের প্রথম প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টিবলয় ‘গোধূলি’। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত থেকেই দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দিয়ে এই বৃষ্টিবলয়টি সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ দল (BWOT)।
সংস্থাটি জানায়, বৃষ্টিবলয় ‘গোধূলি’র প্রভাবে দেশের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃষ্টিবলয়টি মূলত দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বেশি সক্রিয় থাকবে।
আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, শুক্রবার রাতে সিলেট, রংপুর এবং ময়মনসিংহ বিভাগ দিয়ে বৃষ্টিবলয়টি দেশে প্রবেশ করবে। এরপর ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আগামী ১৮ মার্চ উপকূলীয় অঞ্চল দিয়ে দেশ ত্যাগ করতে পারে।
বিডব্লিউওটির তথ্যমতে, বৃষ্টিবলয় ‘গোধূলি’র প্রভাবে সিলেট বিভাগ ও ময়মনসিংহ বিভাগ সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকবে। এছাড়া ঢাকা বিভাগের উত্তর-পূর্বাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগের উত্তরাঞ্চল এবং রংপুর বিভাগের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও কয়েক দফায় কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা ও রংপুর বিভাগের বাকি অংশ, রাজশাহী বিভাগ এবং খুলনা বিভাগের উত্তরাঞ্চলে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে বরিশাল বিভাগ এবং খুলনা ও চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির সক্রিয়তা তুলনামূলক কম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে মাঝারি থেকে তীব্র বজ্রপাত এবং বিক্ষিপ্ত শিলাবৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর কিছুটা উত্তাল থাকতে পারে বলে সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে সীমিত আকারে পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে এই বৃষ্টিবলয়ের কারণে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টি দেশের তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে স্বস্তি এনে দিতে পারে এবং কৃষি ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।