ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবর্ণা রানী সাহাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। একটি ভূয়া ফেসবুক পেজ থেকে তার বিরুদ্ধে সম্মানহানিকর পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এসব তথ্যের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একজন সৎ ও জনপ্রিয় কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ৩০তম বিসিএস পরীক্ষায় মোট ৫ হাজার ৮১০ জন উত্তীর্ণ হন। এর মধ্যে ক্যাডার পদে সুপারিশ পান ২ হাজার ৩৬৭ জন এবং বাকিরা নন-ক্যাডার পদে বিবেচিত হন। প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার আবেদনকারীর মধ্য থেকে ৮ হাজার ৬৪০ জন ভাইভা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। সেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সুবর্ণা রানী সাহা মেধা তালিকায় ১৪তম স্থান অর্জন করে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। যা তার মেধা ও যোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিসিএসের কয়েকটি ব্যাচের কর্মকর্তাকে ঘিরে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে বিসিএস ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১ ব্যাচের শতাধিক কর্মকর্তা এ ধরনের অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন। এক যুগের বেশি সময় সরকারি চাকরি করার পর এখন মিথ্যা তথ্য ও গুজবের কারণে সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন অনেক কর্মকর্তা।
এ চারটি ব্যাচে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের বেছে নিয়ে নানা ধরনের মুখরোচক গল্প ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব গুজবের কারণে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও বিব্রত অবস্থায় পড়েছে। এই অপপ্রচারের তালিকা থেকে বাদ পড়েননি কালীগঞ্জের সাবেক জনপ্রিয় ইউএনও সুবর্ণা রানী সাহাও।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কালীগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে সুবর্ণা রানী সাহা সততা, কর্মনিষ্ঠা এবং মানবিক আচরণের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় তিনি দিন-রাত কাজ করে উপজেলার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন, ত্রাণ বিতরণ, অসহায় ও কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে তিনি সক্রিয় ছিলেন।
এছাড়াও শিক্ষা উন্নয়ন, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে তার উদ্যোগ স্থানীয়দের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সমস্যা শুনে দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা, উন্নয়নমূলক কাজ তদারকি এবং প্রশাসনিক সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
স্থানীয় অনেকেই মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সম্মানিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা অনৈতিক এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকর। তাই যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
কালীগঞ্জবাসীর মতে, যেসব কর্মকর্তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের কল্যাণে কাজ করেন, তাদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা সবসময় অটুট থাকে। সেই তালিকায় সাবেক ইউএনও সুবর্ণা রানী সাহার নামও বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে স্থানীয়রা তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং ভবিষ্যৎ জীবনের আরও সাফল্য কামনা করেছেন।