তীব্র শীতের মধ্যেই রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ভোর থেকে একযোগে চালানো এই হামলায় দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা এএফপি কিয়েভ থেকে জানায়, রাশিয়া সর্বশেষ এই হামলায় ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। এর ফলে একাধিক অঞ্চলে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, “রাশিয়া আবারও আমাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি বিদ্যুৎ বিভ্রাট কার্যকর করা হয়েছে।”
ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইউক্রেনএনারগো জানায়, ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এমন সময়ে দেশের বেশিরভাগ এলাকায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি নেমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলীয় খমেলনিতস্কি এলাকায় একজন এবং রাজধানী কিয়েভে আরেকজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া একাধিক অঞ্চলে শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
হামলার সময় ইউক্রেনের আকাশসীমা রক্ষায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। পোল্যান্ডের সেনাবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দক্ষিণ ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ওডেসায় হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। লক্ষ্য হচ্ছে সামুদ্রিক লজিস্টিকস ও রপ্তানি কার্যক্রম পুরোপুরি অচল করে দেওয়া।
মঙ্গলবারের নতুন হামলায় ওডেসায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা জানিয়েছে। তবে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে হামলার তীব্রতা বাড়ায় সেতু ও বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে শীতের মাঝামাঝি সময়ে হাজারো মানুষ বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।