বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসন ও বিসিকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলা এখন উৎসবমুখর পরিবেশে জমে উঠেছে। শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সাত দিনব্যাপী এই মেলার আজ পঞ্চম দিন। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন সড়কে মানুষের ভিড় দেখা গেলেও বিকেল ও সন্ধ্যায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো বেড়ে যায়।
মেলায় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় করছেন। দর্শনার্থীরা কেনাকাটার পাশাপাশি উপভোগ করছেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নানা রঙের স্টল, দেশীয় পণ্য ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীতে সাজানো মেলাটি হয়ে উঠেছে শহরবাসীর বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এতে করে উদ্যোক্তাদের বেচাকেনাও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে হাতে তৈরি পোশাক, মাটির তৈরি পণ্য, পাট ও বাঁশের তৈরি সামগ্রী, গৃহস্থালি জিনিসপত্র এবং শিশুদের খেলনার চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে।
মেলায় অংশ নেওয়া স্থানীয় উদ্যোক্তা নুর জাহান বলেন, “নববর্ষ উপলক্ষে মানুষের উপস্থিতি অনেক বেশি। বিকেলের পর থেকে স্টলে ভিড় বেড়ে যায়। হাতে তৈরি পোশাক ও নারীদের ব্যবহার্য পণ্য সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে।”
ঢাকা থেকে আসা ‘নাহার কালেকশন’-এর উদ্যোক্তা সামছুন্নাহার জানান, “মেলায় প্রচুর মানুষ আসছে, তবে ঢাকা থেকে এসে খরচ তোলা কিছুটা কঠিন। তারপরও এখানে কী ধরনের পণ্য চলে, তা বোঝার জন্য এসেছি।”
দর্শনার্থীদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। পরিবার নিয়ে মেলায় আসা মো. নাজমুস সাকিব বলেন, “প্রতি বছরই আমরা বৈশাখী মেলায় আসি। শিশুদের আনন্দ দেখতেই সবচেয়ে ভালো লাগে। পাশাপাশি এক জায়গায় নানা দেশীয় পণ্য পাওয়া যায়।”
আরেক দর্শনার্থী সাজেদুল ইসলাম বলেন, “বিকেলে পরিবার নিয়ে এসেছি। শিশুদের জন্য খেলনা, খাবার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—সব মিলিয়ে দারুণ আয়োজন। এমন আয়োজন প্রতিবছর হলে ভালো লাগে।”
বিসিকের এক কর্মকর্তা জানান, মেলায় সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্প প্রদর্শন করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় ও বিভিন্ন জেলার উদ্যোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের মিলনমেলা তৈরি হয়েছে, যা ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, “পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আমরা বর্ণাঢ্য আয়োজন করেছি। এই বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলার মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। নকশীকাঁথা, কাঠের শোপিসসহ বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল পণ্য এখানে তুলে ধরা হয়েছে।”
জেলা প্রশাসন ও বিসিকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলা একদিকে যেমন স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি নববর্ষের আনন্দে শহরবাসীর জন্য তৈরি করেছে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা।