ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভা এলাকায় প্রত্যাশিত নাগরিক সেবা না পাওয়ার অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও সেবার মান নাকি তৃতীয় শ্রেণীর মতো—এমন মন্তব্য করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিয়মিত কর পরিশোধ করেও ভাঙাচোরা সড়ক, জলাবদ্ধতা, সড়কবাতির অভাব ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুরবস্থায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন পৌরবাসী।
১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রায় ২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভার জনসংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। কিন্তু জনসংখ্যা ও আয়তনের তুলনায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন অনেকটাই পিছিয়ে। পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কে পিচ উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও আবার এখনো নির্মিত হয়নি পাকা রাস্তা। অনেক স্থানে এক যুগ আগে ইটের সলিং করা হলেও বর্তমানে তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের খানাখন্দে পানি জমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির কারণে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে জলাবদ্ধতা অনেক এলাকায় স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও পৌরবাসীর বড় অভিযোগ। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না হওয়ায় দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। রাত নামলেই অধিকাংশ এলাকায় সড়কবাতি না থাকায় অন্ধকারে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে নারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থাও নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা নিয়মিত পৌর কর দিচ্ছি। কিন্তু সেই অনুপাতে কোনো সেবা পাচ্ছি না। সামান্য বৃষ্টি হলেই চলাচল করা যায় না।” নাসিমা খাতুন বলেন, “রাতে সড়কবাতি না থাকায় খুব ভয় নিয়ে চলতে হয়। বর্জ্য সময়মতো অপসারণ না করায় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।” ব্যবসায়ী আব্দুল হালিমের ভাষায়, “প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও নাগরিক সুবিধা তৃতীয় শ্রেণীর মতো। সুপেয় পানির সংকটে অনেক সময় নিজ খরচে পানি সংগ্রহ করতে হয়।”
এ বিষয়ে শৈলকুপা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম শরিফুল ইসলাম জানান, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার, নতুন পাকা রাস্তা নির্মাণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।
তবে পৌরবাসীর দাবি, দ্রুত দৃশ্যমান উন্নয়ন না হলে নাগরিক দুর্ভোগ আরও বাড়বে। নিয়মিত কর পরিশোধের বিপরীতে মানসম্মত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।