ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (০৩ মে) বিকালে কালীগঞ্জ শহরের ঢাকালে পাড়ার নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, দুই কন্যাসহ অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। জীবদ্দশায় তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক, সৎ মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের প্রিয় অভিভাবক হিসেবে সবার কাছে পরিচিত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ রোববার রাত সাড়ে ৮টায় নলডাঙ্গা ভূষণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সোমবার (০৪ মে) সকাল ১১টায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হুদা পুটিয়া গ্রামে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
জীবনভর শিক্ষা বিস্তারে নিবেদিত সিরাজুল ইসলাম স্যার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হুদা পুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ওই গ্রামের মরহুম হাসানুর উদ্দিন মল্লিকের সন্তান। ১৯৭৮ সালে তিনি ছলিমুন্নেসা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়-এ সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি নলডাঙ্গা ভূষণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়-এ সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার চাপরাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অবসর গ্রহণ করেন। তবে শিক্ষা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেননি তিনি। ২০০৯ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি কালীগঞ্জ কোয়ালিটি ইংলিশ ভার্সন স্কুল-এ প্রিন্সিপাল হিসেবে যোগদান করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেখানেই কর্মরত ছিলেন।
তার মৃত্যুতে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে। অনেকেই তাকে একজন আদর্শ শিক্ষক ও সমাজগঠনে নিবেদিতপ্রাণ মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।