বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহে অস্থিরতার প্রভাব এখন গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেল আরোহীদের দীর্ঘ লাইন, বিশৃঙ্খলা এবং তেল প্রাপ্তিতে বৈষম্য নিত্যদিনের দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট নিরসনে প্রযুক্তিনির্ভর এক অভিনব উদ্যোগ নিয়ে সামনে এসেছেন স্থানীয় তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা শেখ ওবায়দুল হক রাসেল।
তেল বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আনতে তিনি একটি স্মার্টফোন অ্যাপস তৈরি করেছেন। এই অ্যাপসের মাধ্যমে ফিলিং স্টেশনে আগত মোটরসাইকেলের নম্বর ও ইঞ্জিন নম্বর স্ক্যান করে তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। রাসেল জানান, অ্যাপসটি কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে এবং একাধিক ফিলিং স্টেশনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি একাধিকবার তেল নিতে আসেন, তাহলে অ্যাপসটি তাৎক্ষণিকভাবে তার পূর্বের তথ্য দেখাবে—কবে, কোথা থেকে এবং কত লিটার তেল নেওয়া হয়েছে। ফলে একই ব্যক্তি বারবার তেল নিতে পারবেন না। এতে করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির প্রবণতা কমবে এবং প্রকৃত গ্রাহকরা সহজে তেল পাবেন।
রাসেলের মতে, বর্তমানে কিছু অসাধু চক্র তেল সংগ্রহ করে মজুদ করছে এবং পরে বেশি দামে বিক্রি করছে। এই অ্যাপস চালু হলে এমন প্রতারণা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১০টার মধ্যে কালীগঞ্জ পৌরসভার এসআর ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে অ্যাপসটির উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রাসেল জানান, কেউ যদি প্রতারণার মাধ্যমে বারবার তেল নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে অ্যাপসের মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করা হবে। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ সফল হলে শুধু কালীগঞ্জ নয়, দেশের অন্যান্য এলাকায়ও তেল বিতরণ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং কৃত্রিম সংকট অনেকাংশে দূর হবে।