ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (Islamic Revolutionary Guard Corps) হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় গ্যাসবাজারে দামের অস্বাভাবিক উল্লম্ফন নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
লন্ডনের ICE Futures Europe–এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি হাজার ঘনমিটার গ্যাসের দাম একদিনেই প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়ে ৭৮৫ ডলারে পৌঁছে যায়, যা জানুয়ারি ২০২৩–এর পর সর্বোচ্চ। যদিও পরবর্তীতে দাম কিছুটা কমে প্রায় ৭০০ ডলারে নেমে আসে, তবুও বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
পরিস্থিতির জেরে কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান QatarEnergy সাময়িকভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। ইরানি বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার পর কাতার বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ। বর্তমানে দেশটির বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৭৭ মিলিয়ন টন। ভবিষ্যতে তা ১৪২ মিলিয়ন টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা ছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে সামরিক অভিযান শুরু করে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলা চালানো হয়। White House দাবি করে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল।
হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, দেশজুড়ে এ হামলায় ৭৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এর জবাবে ‘Operation True Promise 4’ নামে পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করে ইরান। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার (২ মার্চ) আইআরজিসির এক কমান্ডার ঘোষণা দেন যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সতর্ক করে বলা হয়, কোনো জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুট বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত অঞ্চলের দিকে। হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা কতদিন কার্যকর থাকে এবং এর প্রভাব কতদূর বিস্তৃত হয়—সেটিই এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।