আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের আরোপিত টোল বা ফি দেওয়ার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে উপসাগরীয় ছয় দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও ওমান। এ দেশগুলো আঞ্চলিক জোট গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)-এর সদস্য।
মঙ্গলবার সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত জিসিসির বৈঠক শেষে সংস্থাটির মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আলবুদাইউই এক বিবৃতিতে জানান, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরানের টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত ‘অবৈধ’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। জিসিসি সদস্য রাষ্ট্রগুলো এ ধরনের পদক্ষেপ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে বলেও স্পষ্টভাবে জানানো হয়।
বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি, যা আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে। প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সম্পন্ন হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় তেহরান। পরবর্তীতে তারা ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ ওই পথে চলাচল করলে তা লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
এর কিছুদিন পর ইরান নতুন শর্ত আরোপ করে জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে, তবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের অনুমতি নিতে হবে এবং প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার হারে টোল প্রদান করতে হবে। ইরানের এই সিদ্ধান্তই মূলত জিসিসি সদস্য দেশগুলোর তীব্র প্রতিক্রিয়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর এই বিরোধ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদি দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।