কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিশেষ অভিযানে ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম বড় মাদকবিরোধী সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) ভোররাতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ওয়াব্রাং সীমান্ত এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ভোররাতে নাফ নদী সংলগ্ন সীমান্ত দিয়ে চোরাকারবারিরা ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। এরপর বিজিবি আধুনিক প্রযুক্তি—রাডার ও থার্মাল ইমেজারের মাধ্যমে সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত করে।
পরবর্তীতে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কৌশলগতভাবে অবস্থান নেয় এবং অ্যাম্বুশ স্থাপন করে। একপর্যায়ে চোরাকারবারিরা নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ জানায়।
এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা সঙ্গে থাকা ইয়াবার পোটলাগুলো ফেলে দিয়ে দ্রুত নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাঁতরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ১৩টি বড় পোটলা থেকে মোট ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মাদকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। একইসঙ্গে এই চালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে বিজিবির এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে মাদক চক্র সম্পূর্ণ নির্মূল করতে আরও কঠোর নজরদারি ও আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা প্রয়োজন।