পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা-এর আমরাজুরী ফেরিঘাট সংলগ্ন সন্ধ্যা নদী তীরে ভয়াবহ ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন নদীর পাড় ধসে পড়ায় ইতোমধ্যে অন্তত ২০টি দোকান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং ঝুঁকিতে রয়েছে আরও প্রায় ৩০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এতে করে ফেরিঘাট এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। গত কয়েক বছর ধরে এই এলাকায় নদীভাঙনের প্রবণতা বেড়ে গেছে এবং বর্তমানে তা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
আমরাজুরী বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী গাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, “এক এক করে আমাদের দোকান নদীতে চলে যাচ্ছে। জিও ব্যাগ ফেলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। আমরা শুধু অপেক্ষা করছি কখন পুরো এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।” অন্য ব্যবসায়ীরাও জানান, দিন-রাত আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে তাদের। অনেক সময় ভাঙনের কারণে ফেরি চলাচলও বিঘ্নিত হচ্ছে, যা যোগাযোগ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ভাঙনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তা যথেষ্ট হচ্ছে না। বিষয়টি ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।”
অন্যদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর এক কর্মকর্তা জানান, আমরাজুরী ফেরিঘাট এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো ফেরিঘাট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তাই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত স্থায়ী সমাধান ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।