মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে জব্দ করা দুটি বাল্কহেড রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে আবার উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুরো ঘটনাকে ঘিরে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, পাশাপাশি প্রশাসনিক তদারকি নিয়েও উঠেছে সমালোচনা।
জানা যায়, গত ৩ মার্চ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের অভিযোগে বাল্কহেড দুটি জব্দ করা হয়। প্রতিটি বাল্কহেডে প্রায় ১০ হাজার ঘনফুট বালু মজুদ ছিল। জব্দের পর সেগুলো পুলিশের জিম্মায় রাখা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে ঘটনার প্রায় এক মাস পর, গত ২ এপ্রিল হঠাৎ করেই বাল্কহেড দুটি নিখোঁজ হয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা। বাল্কহেড দুটির মালিক শরীয়তপুর জেলার বাসিন্দা ইমরান নাফিজ ও আইয়ুব বেপারী।
পরদিন ৩ এপ্রিল উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে বাল্কহেড দুটি পুনরায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকালে দেখা যায়, একটি বাল্কহেডে বালু ভর্তি থাকলেও অন্যটি সম্পূর্ণ খালি। এতে করে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জব্দের পর একপর্যায়ে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বাল্কহেড দুটি মালিকপক্ষের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে আবার উদ্ধার করা হয়। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, জব্দকৃত বাল্কহেড নিখোঁজ হওয়া প্রশাসনিক দুর্বলতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, বাল্কহেড নিখোঁজের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ‘আলফা-৩’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
অন্যদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাসিত সাত্তার জানান, বাল্কহেড দুটি আইনানুগভাবে জব্দ করা হয়েছিল এবং এ ঘটনায় তিনজনকে সাজা দেওয়া হয়। পাশাপাশি জব্দকৃত বাল্কহেড নিলামে বিক্রির নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যেই সেগুলো নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু বলেন, বিষয়টি তার জানা রয়েছে এবং নিলাম প্রক্রিয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি প্রশাসনিক ত্রুটিই নয়, বরং জবাবদিহিতার প্রশ্নও সামনে এনেছে। দ্রুত স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন না হলে জনমনে আস্থাহীনতা আরও বাড়তে পারে।