হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টার্মিনালটির পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে চারটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত একটি জাপানি কনসোর্টিয়াম। একই সঙ্গে টার্মিনালের রাজস্ব বণ্টনের বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) এবং জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে চলতি মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা চলছে। চুক্তি সম্পন্ন হলে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম জানিয়েছেন, রাজস্ব ভাগাভাগির প্রস্তাব অনুযায়ী টার্মিনালের আয় থেকে জাপানি কনসোর্টিয়াম পাবে ৭৩ শতাংশ এবং বাংলাদেশ পাবে ২৭ শতাংশ। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কাজ করছে।
জানা গেছে, চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো কর্পোরেশন, নিপ্পন কোয়েই এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন–এর সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পালন করবে।
তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটি ২০১৭ সালে অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে। বাকি অর্থ জাপানের ঋণ সহায়তার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে আরও জানা গেছে, নতুন প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর পরিচালনা কাঠামো, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং রাজস্ব বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চুক্তি কার্যকর হলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে যাত্রীসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, বিমান পরিচালনা-সংক্রান্ত সহায়ক সেবা এবং সামগ্রিক বিমানবন্দর পরিচালনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে। এতে দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।