জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় প্রকৃতির কোলে গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমী রেস্টুরেন্ট। বিশাল একটি বটগাছের ডালের ওপর কাঠের মাচা তৈরি করে নির্মাণ করা হয়েছে অনন্য ‘বৃক্ষ বিলাস ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’। প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে এটি এখন নতুন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
হরিণাকুন্ডু উপজেলার চারাতলা বাজার সংলগ্ন ঘোড়দহ গ্রামে অবস্থিত এই রেস্টুরেন্টে গেলে মনে হবে যেন প্রকৃতির মাঝেই বসে আছেন। মাথার ওপরে খোলা আকাশ, চারপাশে সবুজ গাছপালা আর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পানির ধারা পুরো পরিবেশকে করে তুলেছে শান্ত ও মনোমুগ্ধকর।
এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন গ্রামের দুই কলেজপড়ুয়া তরুণ কনক হোসেন ও আবির হাসান। তাদের সৃজনশীল ভাবনা ও প্রকৃতিনির্ভর এই আয়োজন ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ সেখানে ভিড় করছেন নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ নিতে।
রেস্টুরেন্টে উঠতে হলে গাছের গায়ে লাগানো কাঠের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে হয়। এরপর গাছের ডালের ওপর নির্মিত কাঠের মাচায় বসে চা, কফি কিংবা বিভিন্ন খাবার উপভোগ করা যায়। কোকিলের ডাক, পাখির কিচিরমিচির আর শীতল বাতাস মিলিয়ে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী রাকিব হাসান বলেন, “গাছের ওপর বসে চা খাওয়ার অভিজ্ঞতা সত্যিই অসাধারণ। প্রকৃতির এত কাছাকাছি এসে মনে হচ্ছে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা শিউলি খাতুন বলেন, “আমাদের এলাকায় এমন ব্যতিক্রমী কিছু হবে ভাবিনি। এখন অনেক মানুষ আসছে, এতে এলাকাটিও পরিচিতি পাচ্ছে।”
উদ্যোক্তা কনক হোসেন জানান, মানুষের জন্য প্রকৃতির কাছাকাছি কিছু সময় শান্তিতে কাটানোর সুযোগ তৈরি করতেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। অন্যদিকে আবির হাসান বলেন, ভবিষ্যতে এখানে একটি মিনি পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ঝিনাইদহ শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে চারাতলা বাজারের পাশে অবস্থিত এই রেস্টুরেন্টে সহজেই যাওয়া যায়। এছাড়া হলিধানি বাজার হয়ে কাতলামারী-চারাতলা সড়ক দিয়েও দর্শনার্থীরা পৌঁছাতে পারেন।
প্রকৃতি ও ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতার মিশেলে ‘বৃক্ষ বিলাস ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ এখন ঝিনাইদহের নতুন পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।