মুন্সীগঞ্জ শহরের পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় পুকুরে গোসল করতে নেমে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত দুই শিক্ষার্থী হলেন পশ্চিম দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা মো. সোপান (২৪) এবং ঢাকার মিরপুর-১৩ এলাকার বাসিন্দা মো. আজওয়াদ (২৩)। তারা দু’জনই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার দুপুরে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী সোপানের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর একপর্যায়ে বিকেল ৪টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে নামেন। এ সময় হঠাৎ পা পিছলে গভীর পানিতে পড়ে যান আজওয়াদ। তিনি সাঁতার না জানায় দ্রুত পানিতে তলিয়ে যেতে থাকেন।
বন্ধুকে বাঁচাতে সঙ্গে সঙ্গে পানিতে ঝাঁপ দেন সোপান। তবে একপর্যায়ে তিনিও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যেই দুই বন্ধু পানির নিচে তলিয়ে যান। তাদের চিৎকার শুনে অন্য বন্ধুরা ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠী, স্বজন ও স্থানীয়দের মাঝে শোকের মাতম শুরু হয়।
ঘটনার বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে পথিমধ্যে তারা জানতে পারেন, স্থানীয়রা দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। পরে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন।
এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুল হাসান বলেন, বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে নেমে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সোপান ছিলেন অত্যন্ত মিশুক ও বন্ধুবৎসল একজন তরুণ। আর আজওয়াদও বন্ধুদের কাছে প্রাণবন্ত মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাঁতার না জানা অবস্থায় গভীর পানিতে নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ করতে গিয়ে অনেক সময় সতর্কতার অভাব প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই যেকোনো জলাশয়ে নামার আগে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।