মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাচালক শাহজালাল হত্যা মামলার রহস্য অবশেষে উন্মোচন করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনার ৩৫ দিন পর দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন— গজারিয়া উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে ইব্রাহিম ওরফে সাগর (২৭) এবং কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার দাউদেরখাড়া গ্রামের খোরশেদের ছেলে ফাহিম (২৪)।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পাঁচগাছিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইব্রাহিম ওরফে সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন রাত ৯টার দিকে গজারিয়ার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ফাহিমকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কুমিল্লার কোতোয়ালি থানা এলাকায় ফাহিমের বাড়ি থেকে নিহত শাহজালালের ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোঃ মেনহাজুল আলম। তিনি বলেন, অপরাধী ও ভুক্তভোগী একে অপরের পূর্ব পরিচিত ছিলেন এবং উভয়েই পেশায় অটোরিকশাচালক। মূল অভিযুক্ত ইব্রাহিম ওরফে সাগর নেশাসক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে শাহজালালকে হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন।
পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পরিকল্পনা অনুযায়ী ইব্রাহিম শাহজালালকে কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে। পরে রশি দিয়ে তার হাত-পা বেঁধে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে গিয়ে কাজলী নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়। হত্যার পর শাহজালালের অটোরিকশাটি চালিয়ে কুমিল্লায় গিয়ে বন্ধু ফাহিমের কাছে বিক্রি করে দেয় ইব্রাহিম। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুই আসামিই হত্যাকাণ্ডে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত শাহজালাল (৩৭) গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের বক্তারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল মালেকের ছেলে। গত ৫ ডিসেম্বর সকালে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বের হন তিনি। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন ৬ ডিসেম্বর সকালে মধ্য বাউশিয়া গ্রাম সংলগ্ন কাজলী নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অবশেষে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য দিক নিয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আটক আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।