মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এবার মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আঞ্চলিক অফিস ও অবকাঠামোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা Tasnim News Agency বুধবার (১১ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম CNN এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইরানের নতুন লক্ষ্যবস্তু’ শিরোনামের তালিকায় মধ্যপ্রাচ্যে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিভিন্ন মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির আঞ্চলিক অফিস, ক্লাউড সেবা অবকাঠামো, ডেটা সেন্টার এবং গবেষণা ও উন্নয়ন (ডেভেলপমেন্ট) কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ধীরে ধীরে সামরিক অবকাঠামো থেকে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অবকাঠামোর দিকেও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।
তালিকায় বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে Google, Amazon, Microsoft, Nvidia, IBM, Oracle Corporation এবং Palantir Technologies। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত ক্লাউড অবকাঠামো ও ডেটা সেন্টার আঞ্চলিক প্রযুক্তি নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছে।
তাসনিমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত যখন ধীরে ধীরে ‘অবকাঠামো যুদ্ধ’-এর দিকে বিস্তৃত হচ্ছে, তখন ইরানের দৃষ্টিতে সম্ভাব্য ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’র পরিধিও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন প্রযুক্তি অবকাঠামোকে কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে এসব কোম্পানির আঞ্চলিক অফিস ও প্রযুক্তি অবকাঠামোর একটি বড় অংশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের Dubai এবং Abu Dhabi শহরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত। এ ছাড়া ইসরায়েলেও কয়েকটি বড় প্রযুক্তি কোম্পানির ডেভেলপমেন্ট সেন্টার রয়েছে।
এর আগে ইরানের সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের কিছু কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছিল। গত সপ্তাহে Bahrain-এ অবস্থিত একটি Amazon ডেটা সেন্টারে ড্রোন হামলার কথাও ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত অ্যামাজনের আরও দুটি স্থাপনায় ড্রোন হামলার দাবিও করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি প্রযুক্তি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার ঝুঁকি বাড়ে, তবে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেটওয়ার্ক এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।