ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া গ্রামে সামাজিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত ভ্যানচালক একেন আলী মোল্লা (৫৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার (তারিখ অনুযায়ী) গভীর রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগে দায়ের করা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত একেন আলী মোল্লা শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আদালত মোল্লার ছেলে। তিনি পেশায় একজন ভ্যানচালক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শৈলকুপার বগুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর আওয়াল ও সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই কয়েক দিনের ব্যবধানে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন)। ওইদিন সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেনের সমর্থক এনা শেখকে ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। জামির হোসেনের সমর্থকদের অভিযোগ ছিল, সভাপতি আব্দুর আওয়ালের সমর্থক মতিয়ার রহমান পুলিশের কাছে তথ্য দেওয়ায় এনা শেখ গ্রেপ্তার হয়েছেন।
এই অভিযোগের পরপরই মতিয়ার রহমানের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আব্দুর আওয়ালের সমর্থকেরা জামির হোসেনের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (২৭ জুন) সকালে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জামির হোসেনের সমর্থকেরা প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলায় অন্তত পাঁচটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। একই সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় ভ্যানচালক একেন আলী মোল্লাকে।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত একেন আলী মোল্লাকে উদ্ধার করে প্রথমে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সোমবার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন জানান, সামাজিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
তিনি আরও জানান, একেন আলী মোল্লা আহত হওয়ার পর যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল, তার মৃত্যুর পর সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি হামলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধান এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা না হলে এলাকায় আবারও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।