ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী তুলে নিয়ে যাওয়ার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নাটকীয় মোড় নিয়েছে পরিস্থিতি। মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেওয়ার আগেই তিনি নিকোলাস মাদুরোকেই ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাবি করেন এবং আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত না করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় দেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করা হয়েছে। তার ভাষায়, এটি ঔপনিবেশিক শক্তির তেল লুটের কৌশল এবং ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হামলা।
তবে রোববার (৪ ডিসেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে হুমকি দেন, কারাকাসের নেতৃত্ব যদি যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ না মানে, তবে ভেনেজুয়েলায় আবার সামরিক হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের এই হুমকির পর দেলসি রদ্রিগেজের অবস্থানে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যায়।
পরবর্তী বক্তব্যে রদ্রিগেজ বলেন, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক সম্পর্ক স্থাপন এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে যৌথ উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, যুদ্ধ নয়—ভেনেজুয়েলার জনগণ ও গোটা অঞ্চল শান্তি, সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চায়। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্তির পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
৫৬ বছর বয়সী দেলসি রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলার বামপন্থী রাজনৈতিক ধারার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তিনি দেশটির এক প্রখ্যাত বামপন্থী গেরিলা নেতার কন্যা এবং ‘চাভিস্টা’ আন্দোলনের দৃঢ় সমর্থক। প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের নাম ও আদর্শকে ধারণ করে এই আন্দোলনকে এগিয়ে নেন নিকোলাস মাদুরো। আন্দোলনের প্রতি দৃঢ় আনুগত্যের কারণে মাদুরো নিজেই রদ্রিগেজকে ‘বাঘিনী’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
এদিকে, নিকোলাস মাদুরোকে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে। সেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
একই সঙ্গে নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের সদর দপ্তরে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ভেনেজুয়েলায় পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইনসম্মত কি না, তা নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অভিযান অনেকটাই ১৯৮৯ সালে পানামায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সে সময় মার্কিন বাহিনী দেশটির প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও দ্রুতগতির অভিযানে মার্কিন বিশেষ বাহিনী হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কারাকাসে মাদুরোর সুরক্ষিত অবস্থানে প্রবেশ করে। অল্প সময়ের মধ্যেই নিরাপত্তাবলয় ভেঙে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।