পিরোজপুরের ইন্দুরকানী (জিয়ানগর) এফ. করিম আলিম মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীদের জুলাই ২০২৫ মাসের বেতন অযৌক্তিক ও খামখেয়ালিভাবে আটকে রাখার অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১টায় মাদ্রাসা সম্মুখে ইন্দুরকানী–বালিপাড়া মহাসড়কে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে মাদ্রাসার সব শিক্ষক ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে প্রভাষক মাওলানা ছরোয়ার হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা রিয়াজুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অযোগ্যতা ও খামখেয়ালিপনার কারণে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছেন। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে, যা পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমনকি শিক্ষার্থীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। তিনি দ্রুত অধ্যক্ষ পরিবর্তনের দাবি জানান।
প্রভাষক মাওলানা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সিনিয়র শিক্ষকদের মতামত উপেক্ষা করে কয়েকজনের পরামর্শে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। এতে প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মুখে পড়েছে এবং শিক্ষকদের প্রাপ্য বেতন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অভিভাবক মো. নাজমুল হোসেন জানান, তার ছেলে নিয়মিত ক্লাস না পাওয়ায় এবং শিক্ষকদের বিভক্তির কারণে পড়াশোনার মান কমে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা রিয়াজুল ইসলাম জানান, আল ফাতাহ প্রকাশনী থেকে পাওয়া ১৫ হাজার টাকা শিক্ষকদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন। কিন্তু সভাপতি বেতন বিলের স্বাক্ষর দিলেও শর্ত দিয়েছেন—প্রকাশনীর টাকা জমা না দিলে বেতন বিল ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে না।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি (এডহক) মাওলানা মো. জহুরুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি বেতন আটকে রাখেননি; বরং শিক্ষকদের বিভিন্ন খাতে অপচয়ের কারণে প্রকাশনীর টাকা ফেরত চেয়েছেন মাদ্রাসার উন্নয়নের স্বার্থে। শিক্ষকরা জানান, সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।