
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের উচ্ছ্বাস এখনো কাটেনি। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই নতুন চ্যালেঞ্জে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ঘরের মাঠে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় টাইগারদের আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি আইসিসি ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে উন্নতির পথও খুলে দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিশ্রামের সুযোগ খুব কম। কারণ সামনে অপেক্ষা করছে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড।
পাকিস্তান সিরিজের রেশ কাটতে না কাটতেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি। এই সিরিজটি শুধু দ্বিপাক্ষিক লড়াই নয়, বরং ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পথে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশে পৌঁছাবে নিউজিল্যান্ড দল। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কয়েকদিন প্রস্তুতির পর ১৭ এপ্রিল মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম–এ শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। একই ভেন্যুতে ২০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে। এরপর দুই দল যাবে চট্টগ্রামে, যেখানে ২৩ এপ্রিল বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়াম–এ হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে। তিনটি ম্যাচই শুরু হবে দুপুর ২টায়।
ওয়ানডে সিরিজ শেষে ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্রাম ও অনুশীলনের সুযোগ পাবে দুই দল। এরপর শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। চট্টগ্রামে ২৭ ও ২৯ এপ্রিল প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যা ৬টায়। সিরিজের শেষ ম্যাচটি হবে ২ মে ঢাকার মিরপুরে, যা শুরু হবে দুপুর ২টায়। সব মিলিয়ে দুই ভেন্যু—ঢাকা ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে পুরো সিরিজ।
এই সিরিজের গুরুত্ব শুধু সূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি বাংলাদেশের জন্য ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করার পথে একটি বড় সুযোগ। সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ তিনটি মূল্যবান রেটিং পয়েন্ট অর্জন করেছে। এর ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলে আইসিসি র্যাংকিংয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছে মেহেদী হাসান মিরাজ–এর দল। এই অবস্থান আগামী মার্চ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারলে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে টাইগাররা।
অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন দলের লক্ষ্য। তার ভাষায়, প্রতিটি ম্যাচ ও প্রতিটি পয়েন্ট এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে হবে।
নিউজিল্যান্ডের জন্যও এই সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ হলেও তারা পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে বাংলাদেশে আসছে না। আইপিএল ও পিএসএলের ব্যস্ত সূচির কারণে দলের বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার এই সফরে থাকছেন না। অনুপস্থিত থাকবেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার, রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস, টিম সাইফার্ট, ফিন অ্যালেন, কাইল জেমিসন, লকি ফার্গুসনসহ আরও অনেকে। ফলে তরুণ ও তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নিয়েই বাংলাদেশ সফরে আসছে ব্ল্যাক ক্যাপসরা।
তবে প্রতিপক্ষ দুর্বল হলেও বাংলাদেশ কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না। বিশ্বকাপের লক্ষ্য সামনে রেখে শক্তিশালী দল নিয়েই মাঠে নামার পরিকল্পনা টাইগারদের। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও এই সিরিজকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল নিউজিল্যান্ড। তবে ২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাদের হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
সবকিছু মিলিয়ে আসন্ন বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ ২০২৬ কেবল একটি সিরিজ নয়, বরং টাইগারদের জন্য এটি আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা, র্যাংকিং উন্নত করা এবং বিশ্বকাপের পথে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার একটি বড় পরীক্ষা।