
বিপিএলের ফাইনাল মানেই উত্তেজনা, লড়াই আর নাটকীয়তা। কিন্তু এবারের ফাইনাল সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। একপেশে আধিপত্য দেখিয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বিপিএল ট্রফি ঘরে তুলেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে দারুণ এক জয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএল শিরোপা নিজেদের করে নিল রাজশাহী।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে টস জিতে চট্টগ্রামের অধিনায়ক মেহেদী হাসান রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ে পাঠান। তবে সেই সিদ্ধান্ত যে ভুল প্রমাণিত হবে, তা শুরুতেই বুঝিয়ে দেন রাজশাহীর দুই ওপেনার।
ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন তানজিদ হাসান তামিম ও সাহিবজাদা ফারহান। আগ্রাসী ও ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৮৩ রান। ফারহান ৩০ বলে ৩০ রান করে আউট হলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকেন তানজিদ।
এরপর তানজিদের সঙ্গে যোগ দেন অভিজ্ঞ কেইন উইলিয়ামসন। দুজনে মিলে গড়েন ৪৭ রানের কার্যকর জুটি। উইলিয়ামসন ১৫ বলে ২৪ রান করে শরীফুল ইসলামের বলে আউট হন।
ফাইনালের মঞ্চে নিজের সেরা ইনিংস খেলেন তানজিদ তামিম। ৬১ বলে সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে তিনি রাজশাহীর বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ৬২ বলে ৬টি চার ও ৭টি ছক্কায় ১০০ রান করে আউট হন এই বাঁহাতি ওপেনার।
নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স সংগ্রহ করে ১৭৪ রান। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ১১ রান, আর জিমি নিশাম ৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই ধাক্কা খায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। মাত্র ১৮ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার। নাঈম শেখ ১০ বলে ৯ রান করে এবং মাহমুদুল হাসান জয় কোনো রান না করেই আউট হন।
চতুর্থ উইকেটে জাহিদুজ্জামান ও মির্জা বেগ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ধীরগতির ব্যাটিংয়ে ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায়। জাহিদুজ্জামান ১৩ বলে ১১ রান করেন, আর মির্জা বেগ ৩৬ বলে ৩৯ রান করে আউট হন।
শেষ পর্যন্ত নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৭ ওভার ৫ বলে ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায় চট্টগ্রাম।
রাজশাহীর হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন বিনুরা ফার্নান্দো। তিনি ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া হাসান মুরাদ নেন ৩টি এবং জিমি নিশাম শিকার করেন ২টি উইকেট।
এই জয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয়বার বিপিএলের শিরোপা জিতল রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজি। এর আগে ২০১৯–২০ মৌসুমে ‘রাজশাহী রয়্যালস’ নামে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ চারবার শিরোপা জিতেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, আর তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা।