
খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি জীবনের জয়গান—এমন মন্তব্য করেছেন খুলনার দিঘলিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রেসক্লাব সভাপতি বলেন, “খেলা শুধু খেলা নয়, এটি আমাদের জীবনের প্রতিচ্ছবি। যেখানে আমরা শিখি কীভাবে পড়ে গিয়েও আবার উঠে দাঁড়াতে হয়।” তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত খেলাধুলার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, শৃঙ্খলা এবং সহমর্মিতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই খেলাধুলাকে শুধু শারীরিক কসরত হিসেবে দেখে থাকেন। অথচ খেলাধুলা নেতৃত্ব, কৌশল, একাগ্রতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। তাদের সুস্থ, সৃজনশীল ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত জরুরি।
বক্তব্যে তিনি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলেন, নিয়মিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ফলাফল তুলনামূলকভাবে ভালো হয়। তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়, দলগত কাজের দক্ষতা তৈরি হয় এবং মানসিক চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ে।
অনুষ্ঠানে যৌথভাবে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন দিঘলিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম এবং উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ জাহিদুজ্জামান।
সেনহাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান মল্লিকের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুগন্ধি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হুমায়ূন কবির বিশ্বাস, সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ওয়াহিদ মুরাদ, রফিকুল ইসলাম বাবু, আরিফুল ইসলাম হাসান, এস এম শামীম, উপজেলা প্রেসক্লাবের সম্পাদক শেখ শামীমুল ইসলাম, সাংবাদিক আবিদ হাসান, মাস্টার নজির আহম্মেদসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
এছাড়া বিদ্যালয়ের বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী মিন্টু, ইয়াসিন আলী মোড়ল, শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সমাপনী বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান মল্লিক বলেন, “শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করতেই এই ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সকলের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও ক্রীড়া কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে।”
অনুষ্ঠান শেষে অতিথি ও অভিভাবকরা বিদ্যালয় প্রশাসনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে প্রধান শিক্ষকের আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক এম সিদ্দিক-উজ-জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাস্টার শেখ নজির আহম্মেদ, প্রতিভাময়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. লিপি খাতুন, খান এ সবুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইম্রান গাজী, সূর্যমুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা খাতুন এবং আইডিয়াল কেজি স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার। অনুষ্ঠান শেষে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।