
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কাশিপুর বেদেপল্লীতে অবশেষে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যস্থতায় দুই গ্রুপের বিরোধ মিটে যাওয়ায় নিজ নিজ ঘরে ফিরে এসেছে বেদে সম্প্রদায়ের অন্তত ৪০টি পরিবার। এতে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তিতে থাকা বেদেপল্লীতে স্বস্তির পরিবেশ ফিরে এসেছে।
রবিবার (দুপুর) প্রায় অর্ধশত সিএনজি ও ইজিবাইকের বহর নিয়ে মনিরুল গ্রুপের শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু কাশিপুর বেদেপল্লীতে প্রবেশ করে। ঘরে ফেরার এই দৃশ্য দেখতে এলাকাবাসীর মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘ সময় পর পরিবারগুলো ফিরে আসায় এলাকাজুড়ে আনন্দ ও স্বস্তির আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরে বেদেপল্লীর আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে রাসেল গ্রুপ ও মনিরুল গ্রুপের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজনের প্রাণহানি হয় এবং বহু ঘরবাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, এক বছর আগে মনিরুল গ্রুপের পরিবারগুলো নিরাপত্তার কারণে নিজ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে উভয় পক্ষকে নিয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসা হওয়ায় গত রবিবার মনিরুল গ্রুপের ৪০টি পরিবার পুনরায় নিজ বসতভিটায় ফিরে আসে।
ঘরে ফেরার পর স্থানীয় মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রাসেল ও মনিরুল গ্রুপ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকার অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি পূর্বের সংঘর্ষ সংক্রান্ত মামলাগুলো পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঘরে ফেরা মনিরুল গ্রুপের নেতা মনিরুল বলেন, “দীর্ঘদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
অন্যদিকে রাসেল গ্রুপের রাসেল বলেন, “ভুল বোঝাবুঝির কারণে আমরা অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছি। ভবিষ্যতে আর কোনো সংঘাতে জড়াতে চাই না। সবাই মিলেমিশে শান্তিতে থাকতে চাই।”
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য লালটু মিয়া বলেন, “বেদেপল্লীর এই বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন এলাকাবাসী আতঙ্কে ছিলেন। আজ দুই পক্ষের সমঝোতায় পরিবারগুলোর ফিরে আসা সত্যিই স্বস্তির খবর। সবাই যদি নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, তাহলে এই শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে।”
দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের অবসানের ফলে কাশিপুর বেদেপল্লীতে আবারও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরতে শুরু করেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, এই শান্তি নতুন প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করবে।