ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। বৃহস্পতিবার (তারিখ) দুপুর ১২টায় ঝিনাইদহ সড়কে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব। মতবিনিময় সভায় তিনি নির্বাচন, গণতন্ত্র, সাংবাদিকদের ভূমিকা এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন।
মতবিনিময় সভায় মাওলানা আবু তালিব বলেন, “সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে মানুষের ভোটাধিকার বারবার হরণ করা হয়েছে। ভোট এলেই মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হয়, আর ভোট শেষে পরাজিতদের ওপর হামলা চালানো হয়।”
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন ভিন্ন আঙ্গিকে অনুষ্ঠিত হবে বলে মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হলে জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রয়োগ করতে পারবে।
আবু তালিব বলেন, “সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। একটি সুন্দর ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে আপনারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।” তিনি আরও বলেন, জনগণ যাকে চাইবে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সেই প্রার্থীই নির্বাচিত হবেন—এমন নির্বাচনই তিনি দেখতে চান।
জামায়াত প্রার্থী বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে নানা চক্রান্ত চলছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে সার্বিক পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঝিনাইদহ-৪ আসনের প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান তুলে ধরে আবু তালিব বলেন, “জনগণ যাকেই সমর্থন দেবে, তাকেই আমি স্বাগত জানাবো। আর যদি জনগণ আমাকে নির্বাচিত করে, তাহলে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের পরামর্শে এলাকার সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানে কাজ করব।”
তিনি আরও বলেন, ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিলে তিনি তা বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবেন এবং সংশোধনের চেষ্টা করবেন।
আবু তালিব তার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, দখলবাজি ও মাদক সমাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা সাংবাদিকদের সহযোগিতা নিয়ে বন্ধ করতে চান তিনি।
তিনি বলেন, মোবারকগঞ্জ সুগার মিল বর্তমানে মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। এটি কীভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নোংরা পরিবেশের কারণে রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এটি পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়ন, বেকার সমস্যা সমাধান এবং প্রবাসীদের দেখভালের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
আবু তালিব বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে। তারা যেন নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করতে পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সব সমস্যার সমাধান ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আব্দুল হক, সাবেক উপজেলা আমির মাওলানা ওলিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক লুৎফর রহমান, মিডিয়া সমন্বয়ক ইকবাল হোসাইন, কর্মপরিষদ সদস্য মো. মনিরুজ্জামানসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।