ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ক্রয়কৃত জমিসহ বাড়ি দখল ও হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আব্দুল ওহাব। শনিবার কালীগঞ্জ উপজেলা শহরে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরেন।
আব্দুল ওহাব জানান, ২০২২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জ পৌর শহরের ফয়লা গ্রামের মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে লতিফুল আলম সহিদুলের কাছ থেকে তিনি ৫ শতাংশ জমিসহ একটি পুরাতন বাড়ি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর বিক্রেতা সহিদুল আবেদন করেন, পরিবারসহ ৫ মাস ওই বাড়িতে থাকার সুযোগ দিতে। মানবিক কারণে তিনি এতে রাজি হন। পরে জমির নামজারি সম্পন্ন করে খাজনাও হালনাগাদ করেন।
কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষে বাড়ি ছাড়তে বললে সহিদুল তালবাহানা শুরু করেন। বিভিন্ন শালিস বৈঠক ও থানায় সমঝোতার চেষ্টা করেও তিনি বাড়ি ছাড়েননি। ওহাব দাবি করেন, সহিদুল ক্রয়কৃত জমি বাবদ ব্র্যাক ব্যাংক ঝিনাইদহ শাখা থেকে তার বাবার নামে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার ঋণ নিয়েছিলেন। বাধ্য হয়ে তিনি সুদ মওকুফের আবেদন করে আরও ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা পরিশোধ করে ব্যাংক থেকে বাড়িটি মুক্ত করেন। এ পর্যন্ত জমি ও আইনি লড়াইয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, বাড়ি ফেরত দেওয়ার পরিবর্তে সহিদুল তার কাছে আরও ৭ লাখ টাকা দাবি করছেন, যা চাঁদাবাজির শামিল। এ ছাড়া সহিদুল বিভিন্ন প্রতারণার মামলায় আসামি এবং ইতোমধ্যেই দুইবার জেল খেটেছেন। বর্তমানে তিনি আদালতে উচ্ছেদ মামলা দায়ের করেছেন, যা বিচারাধীন রয়েছে।
আব্দুল ওহাব অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ তার নামে ৬টি হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দিয়েছে এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করতে সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে নানা অপবাদ ছড়াচ্ছে। তিনি জানান, সহিদুল শুধু তাকে নয়, নিজের আত্মীয়-স্বজনদেরও সুদের মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল ওহাব ক্রয়কৃত জমিসহ বাড়ি দখল থেকে মুক্তির দাবি জানান এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও প্রতারক লতিফুল আলম সহিদুলের শাস্তির দাবি করেন।