জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি নেতা ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খালেদ মাসুদ তালুকদার সোহেলের বিরুদ্ধে আবারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এবার প্রতিবেশীর জমি দখল ও হামলার অভিযোগে তিনি আলোচনায় এসেছেন। শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টা পর্যন্ত তাকে নিয়ে জেলা জুড়ে চলছে নানা সমালোচনা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সোহেল তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী গোলাম মোস্তফার সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে আছেন। সম্প্রতি তিনি জোরপূর্বক সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মোস্তফার বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ির বেড়া ভেঙে দেন এবং সীমানার গাছ কেটে নিয়ে নিজের বাউন্ডারি তৈরি করেন। এ নিয়ে মামলা দায়ের হলেও তদন্ত রিপোর্ট ও নথি যোগসাজশে সরিয়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। পরে দায়রা জজ আদালতে আপিলের মাধ্যমে নথি উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সোহেল তালুকদারের বিরুদ্ধে থানায় ও সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ করা হলেও তার প্রভাবশালী সম্পর্কের কারণে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিতে গেলে তার সন্ত্রাসীরা কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলে। এমনকি হামলা চালিয়ে গোলাম মোস্তফার স্ত্রী ও সন্তানকে মারধর করে গুরুতর আহত করে।
বর্তমানে মোস্তফার বাড়ির গেট ভেঙে ফেলা, সামনের রাস্তায় গোবরের স্তূপ ফেলে যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাসহ নানা হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সোহেল দলীয় প্রভাব ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ব্যবহার করে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপির একাধিক স্থানীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত ৫ আগস্টের পর থেকে সোহেল বিপুল পরিমাণ টাকার মালিক হয়েছেন। চাকরি দেওয়ার নামে ও পুলিশের বদলি নিশ্চিত করার নামে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা নিচ্ছেন। সমালোচনা করলে মিথ্যা মামলার ভয় দেখান বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোহেল তালুকদার সাংবাদিকদের এড়িয়ে গিয়ে শুধু বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। অডিও ভাইরাল নিয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।
মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মঞ্জুর কাদের খান বাবুল জানান, বিষয়টি জেলা বিএনপিকে জানানো হয়েছে। তবে জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়ারেছ আলী মামুন দাবি করেছেন, অফিসিয়ালি কোন অভিযোগ তারা পাননি। সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ মিয়া বলেন, লিখিত অভিযোগের অনুলিপি তিনি পাননি, তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামালপুর পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম পিপিএম সেবা জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। একজন দক্ষ অফিসারকে দিয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।