
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনে প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সরবতা বেড়েছে। এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন রাশেদ খান। একই সঙ্গে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপির আরও দুই নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও মুর্শিদাজামান পপি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
সোমবার (মনোনয়ন জমার শেষ দিন) বিকেল ৩টার দিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খান জেলা ও স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে এসে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
রাশেদ খান এর আগে গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও সম্প্রতি পদত্যাগ করেন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিলের সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব আতিয়ার রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এবং ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির উপদেষ্টা সদস্য মুর্শিদাজামান পপি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাঁদের মনোনয়ন দাখিলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে রোববার জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব মনোনয়নপত্র জমা দেন। এছাড়া সোমবার শেষ দিনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল জলিল (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির এমদাদুল ইসলাম বাচ্চু, গণফোরামের খনিয়া খানম, স্বতন্ত্র প্রার্থী ওবায়দুল হক রাসেল ও মীর আমিনুল ইসলাম সগ মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ জানান, এবার ঝিনাইদহ-৪ আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। শেষ দিন পর্যন্ত যাচাই করে দেখা গেছে, মোট ৯ জন প্রার্থী বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
মনোনয়ন দাখিলের মধ্য দিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রার্থীদের সক্রিয়তা ও নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এলাকায় নির্বাচনী আমেজ ধীরে ধীরে জমে উঠছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।