ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নার্সিং শিক্ষার্থী নাসরিন নাহার শামিমার মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় কালীগঞ্জ মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও শামিমার সহপাঠীরা এই মানববন্ধনে অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, নাসরিন নাহার শামিমার মৃত্যু আত্মহত্যা নয়; তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং সেটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা চলছে। তারা দাবি করেন, দ্রুত ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
শামিমার সহপাঠী মিতুল বলেন, “মৃত্যুর দিন সকালেও শামিমার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তার আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখিনি। আত্মহত্যার মতো পরিস্থিতি তার জীবনে ছিল না। আমরা কিছু অডিও ক্লিপ পেয়েছি, যেখানে পরিবার থেকে তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল। তাই আমাদের সন্দেহ এটি হত্যাকাণ্ড।”
অন্য সহপাঠী আপন জানান, “একটি চিরকুট দেখানো হয়েছে, যেটি নাকি শামিমা মৃত্যুর আগে লিখে গেছে। কিন্তু সেটি তার হাতের লেখা নয়। শামিমার হাতের লেখার সঙ্গে কোনোভাবেই মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। এতে স্পষ্ট গড়মিল আছে এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট বুধবার সন্ধ্যায় কালীগঞ্জ পৌরসভার বলিদাপাড়া গ্রামের ওফদা সড়কে নাসরিন নাহার শামিমা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে সহপাঠী ও স্থানীয়দের দাবি, শামিমা কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারে না। তারা এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
শামিমাকে ছোটবেলা থেকেই লালন-পালন করেন কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক সিনিয়র সেবিকা রাজিয়া সুলতানা। স্থানীয়রা বলছেন, একজন মেধাবী নার্সিং শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শুধু পরিবার নয়, সমাজেরও অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তাই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।