
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ফিলিং স্টেশনে তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে চালু হয়েছে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ। স্থানীয় তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা ওবায়দুল হক রাসেলের তৈরি একটি স্মার্টফোন অ্যাপসের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে কালীগঞ্জের এস আর ফিলিং স্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ। এ সময় তিনি বলেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে তেল বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে এবং সাধারণ ভোক্তারা উপকৃত হবেন।
উদ্যোক্তা রাসেলের তৈরি অ্যাপসটির মাধ্যমে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল দেওয়ার আগে মোটরসাইকেলের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো মোটরসাইকেল তেল নিতে এলে তার নাম্বার প্লেট, ইঞ্জিন নাম্বার অথবা চ্যাসিস নাম্বার স্ক্যান করা হয়। এরপর সেই তথ্য সার্ভারে সংরক্ষণ করে নির্ধারিত পরিমাণ তেল দেওয়া হয়।
এই অ্যাপসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—একটি মোটরসাইকেল নির্দিষ্ট সময়ের আগে পুনরায় তেল নিতে পারবে না। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি গ্রাহকের জন্য তেল নেওয়ার সময় ও পরিমাণ নির্ধারণ করা থাকে। ফলে একাধিক ফিলিং স্টেশনে ঘুরে অতিরিক্ত তেল নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অ্যাপস চালুর পরই এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার ও বুধবার অ্যাপসের মাধ্যমে অকটেন ও পেট্রোল বিক্রির সময় কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক এক স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার পর অন্য স্টেশনে গিয়ে আবার তেল নেওয়ার চেষ্টা করলে তারা সিস্টেমে ধরা পড়েন। পরে তারা ক্ষমা চেয়ে প্রথমবারের মতো সতর্কবার্তা পেয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
উদ্যোক্তা ওবায়দুল হক রাসেল জানান, দীর্ঘদিন ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে বিশৃঙ্খলা, দীর্ঘ লাইন, সিন্ডিকেট ও বৈষম্যের সমস্যা ছিল। অনেক অসাধু ব্যক্তি তেল কিনে মজুদ করে পরে বেশি দামে বিক্রি করতেন। এই অ্যাপস ব্যবহারের ফলে এমন অনিয়ম সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রযুক্তি সঠিকভাবে পরিচালনা করা গেলে প্রকৃত গ্রাহকরা ন্যায্যভাবে তেল পাবেন এবং কৃত্রিম সংকট অনেকটাই দূর হবে। একইসঙ্গে ফিলিং স্টেশনগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকায় একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেইসের মাধ্যমে সব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে।
রাসেল জানান, অ্যাপসটির বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরে তিনি ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে প্রস্তাব পাঠান। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে গত সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সভায় এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ উদ্যোগটি দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
প্রশাসনের অনুমোদন পাওয়ার পরপরই কালীগঞ্জে এই প্রযুক্তিনির্ভর তেল বিতরণ কার্যক্রম চালু করা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও একই পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, তরুণ উদ্যোক্তার উদ্ভাবনী এই উদ্যোগ শুধু স্থানীয় সমস্যার সমাধানই নয়, বরং ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় একটি কার্যকর উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।