
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে পুলিশের উদ্যোগে এক সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে দিঘলিয়া উপজেলা চত্বরে দিঘলিয়া থানার আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক, পিপিএম।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি রেজাউল হক বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং এই দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যদের দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নির্বাচনে পুলিশ নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য কাজ করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা করলে কিংবা কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে পুলিশ বাহিনীও ছাড় দেবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
ডিআইজি রেজাউল হক সমাজে অপরাধ, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, এলাকায় কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। এতে অপরাধ দমন করা সহজ হবে এবং একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনার পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, পুলিশের কোনো সদস্য যদি মাদক বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে অথবা কাউকে অযথা হয়রানি করে, তবে প্রমাণসহ অভিযোগ দায়ের করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ প্রবণতা রোধ করতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও আশ্বস্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) সাইফুল ইসলাম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (স্টাফ অফিসার টু ডিআইজি) মো. রাফিউর রহমান, দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ আলমসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দিঘলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) প্রবীর কুমার বিশ্বাস।
সুধী সমাবেশে এলাকার সাধারণ মানুষ সরাসরি বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা মারামারি, চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং মাদক সংক্রান্ত নানা সমস্যার কথা জানান। অনেকেই লিখিত আকারে নিজেদের অভিযোগ একটি অভিযোগ বক্সে জমা দেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়াবে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মল্লিক, জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মুশফিকুর রহমান, প্রেসক্লাব সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মো. জামাল হোসেন, সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ওয়াহিদ মুরাদ, সালাউদ্দিন বাবু, এস এম শামীম, মেহেদী হাসান, কিশোর কুমার দে, শামীম, রানা, জাহিদুজ্জামান, শেখ শামীম, মনিরুল ইসলাম মোরলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।