
ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খান বলেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপির কাছে শতভাগ নিরাপদ। তিনি উন্নয়ন, শান্তি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
বুধবার (বিকেল) কালীগঞ্জ শহরের সরকারি ভূষণ স্কুল মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, “ধানের শীষ তারেক রহমানের আমানত। এই প্রতীকের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেয়, তাহলে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।” তিনি আরও বলেন, যারা সাধারণ মানুষ ও নিরীহ আওয়ামী লীগের কর্মীদের নামে মামলা দিয়ে চাঁদাবাজি করেছে, তাদের রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করা হবে।
সমাবেশে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাশেদ খান বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে কালীগঞ্জ এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে। কোনো কাঁচা রাস্তা থাকবে না এবং প্রতিটি নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি হাট-বাজার দখলকারীদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “৫ আগস্টের পর যারা অবৈধভাবে বাজার দখল করে চাঁদাবাজি করছে, তাদের দিন শেষ। কালীগঞ্জে আর চাঁদাবাজির রাজত্ব চলবে না।”
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই মানুষ হওয়া যায় না। নৈতিকতা ও দেশপ্রেম না থাকলে রাজনীতি জনগণের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।”
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ। তিনি বলেন, ধানের শীষ প্রতীক তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতীক। কালীগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইসরাইল হোসেন জীবন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান, বিএনপি নেতা আনোয়ারুল ইসলাম রবি, বারোবাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহাবুর রহমান মিলন, বিএনপি নেতা আব্দুল আলিম, মোজাম্মেল হোসেন, বাবুল আক্তারসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী রাশেদ খানের পাশাপাশি জামায়াতের মাওলানা আবু তালেব, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল জলিল, গণফোরামের খনিয়া খানম ও জাতীয় পার্টির এমদাদুল ইসলাম বাচ্চু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।