
আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বাংলাদেশকে আর কেউ পিছিয়ে দিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ উপজেলা ও সদর উপজেলার চার ইউনিয়ন) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খাঁন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হামিদুল ইসলাম হামিদসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
রাশেদ খাঁন বলেন, “আমাকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমি ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে উত্তর দিতে চাই না। আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চাই।” তিনি বলেন, ঝিনাইদহের সন্তান হিসেবে এখানকার মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমস্যা তিনি খুব কাছ থেকে জানেন।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরে রাশেদ খাঁন বলেন, “২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমার রাজনীতিতে পথচলা শুরু। সে সময় আমি পড়াশোনায় ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আমি গ্রেপ্তার হই এবং ১৮ দিন রিমান্ডে নির্মম নির্যাতনের শিকার হই। কিন্তু আমরা মাথা নত করিনি। শেষ পর্যন্ত সেই আন্দোলনই সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়।”
তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন। একপর্যায়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হয়েছে। এরপর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলনে যুক্ত হন তিনি। “তারেক রহমান আমাকে মূল্যায়ন করেছেন এবং ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন দিয়েছেন,” বলেন রাশেদ খাঁন।
তিনি আরও বলেন, “আমি আশা করি, এখানে উপস্থিত বিএনপির সব নেতাকর্মী মান-অভিমান ভুলে এক হয়ে কাজ করবেন। ধানের শীষকে বিজয়ী করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামবেন।” প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দল ও আদর্শের প্রতি বিশ্বাস রেখেই এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিকে বিজয়ের পথে এগিয়ে নিতে হবে।
রাশেদ খাঁন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কেউ কেউ ষড়যন্ত্র করছে, হুমকি দিচ্ছে। আমি তার জবাব দিতে চাই না। আমি সবাইকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে চাই। কেউ বিএনপি করেছে বা অন্য কোনো দল করেছে—এই কারণে কাউকে হয়রানি করা যাবে না।”
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “চাঁদাবাজি, জুলুম ও নিপীড়নের রাজনীতি আর চলবে না। যারা এসবের সঙ্গে জড়িত নয়, তারা নির্ভয়ে থাকবেন।” নির্বাচিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অফিস-আদালত থেকে দুর্নীতি দূরীকরণ এবং সরকারি সেবা গ্রহণে ঘুষ ও তদবির প্রথা বন্ধের অঙ্গীকার করেন তিনি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে এলাকার মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নে কাজ করা হবে।