দিঘলিয়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত হয়েছে। এ বছর “দুর্যোগের পূর্বাভাস প্রস্তুতি” এবং “বাঁচায় প্রাণ, ক্ষয়ক্ষতি” প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা, অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক সচেতনতা মহড়া ও র্যালি সাড়া ফেলে।
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বলেন, “ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বাংলাদেশ একটি দুর্যোগ প্রবণ দেশ। প্রতি বছর দুর্যোগের প্রভাব বেড়ে চলেছে, এবং এটি জনসংখ্যার আধিক্য, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বনভূমির উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন, এবং মানুষের সচেতনতার অভাবের কারণে আরও প্রকট হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, সরকার দুর্যোগের পূর্বাভাস আগেই দিয়ে থাকে, যার ফলে উপকৃত হচ্ছেন বৃদ্ধ, শিশু, গর্ভবতী নারী ও গবাদি পশু, যারা নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তিনি সুন্দরবনের গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, “সুন্দরবন দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি আশীর্বাদ, যা সিডর, আইলা এবং অন্যান্য দুর্যোগে তাদের রক্ষা করেছে।”
আরিফুল ইসলাম বলেন, “দুর্যোগের পূর্বাভাস এবং প্রস্তুতি নেওয়া মানুষের প্রাণ রক্ষা করতে সহায়ক, এবং এই ধরনের প্রস্তুতি ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনে।” তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান, প্রতি খালপাড় ও সমতল ভূমিতে বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করার মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরবর্তী করণীয় বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ রোধ করা সম্ভব নয়, তবে পূর্ব প্রস্তুতি এবং সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।”
আলোচনা সভায় খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ভূমি দেবাংশু বিশ্বাস, দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এইচ এম শাহিন, উপজেলা প্রকৌশলী আবু তারেক সাইফুল কামাল, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ টি এম শাহ্ আলম, এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, দিঘলিয়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুসফিকুর রহমান, দিঘলিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার অহিদ মুরাদ, সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম হাসান, কিশোর কুমার দে, এস এম শামীম, নূরুল হুদা সাজু, এবং অন্যান্য সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এই দিবসের আলোচনায় দুর্যোগের সময় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, প্রস্তুতি এবং জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়।