গাজায় চলমান ইসরায়েলি গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্ব ধর্মীয় নেতাদের শুধু প্রচারে সীমাবদ্ধ না থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীমের সহ-আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়।
‘সংঘাত নিরসনে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ সম্মেলনে মুসলিম, খ্রিস্টান, হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিসহ বিশ্বব্যাপী ৫৪টি দেশের ১৫০ জন বিদেশি ধর্মীয় নেতা এবং প্রায় ১৫০০ অতিথি অংশ নেন।
সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তৃতায় মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের মহাসচিব আল-ইসা বলেন, “গাজা উপত্যকায় আজ যে গণহত্যা ও মানবিক বিপর্যয় চলছে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির ক্ষেত্রে এক ভয়াবহ নজির। জাতিসংঘের সার্বজনীন সনদ ঘোষণার পর এমন পরিস্থিতি বিশ্ব দেখেনি। দুঃখজনক হলেও সত্য, এটি আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় নেতাদের কেবল প্রচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং অনুসারীদের মানবিক মূল্যবোধের দিকে পরিচালিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীম বলেন, “প্রতিদিন আমরা দেখি শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে, ঘরবাড়ি ধ্বংস হচ্ছে, মানুষ বোমার শিকার হচ্ছে। এই পৃথিবীতে কী ঘটছে? আমাদের বিবেকবান হতে হবে এবং ধর্মীয় নেতাদের আরও দৃঢ় ভূমিকা রাখতে হবে।”
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ হাজার ৮৯৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ আহত হয়ে চিকিৎসাহীনতা ও খাদ্য সংকটে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছেন। দখলদার বাহিনী গাজার অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে এবং খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।