
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ১৪ জন বাংলা ভাষাভাষি ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কড়া নজরদারি ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিজিবি-৪৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার আশ্রয়ণ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি জানায়, পুশইনের চেষ্টাকৃত ১৪ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৪ জন শিশু ছিল। তারা সবাই ভারতীয় নাগরিক। তাদের বয়স ও পরিচয় যাচাইয়ের পর বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
পুশইনের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিএসএফের আহ্বানে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে মহিষকুন্ডি বিওপির সুবেদার মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি দল অংশ নেয়। অপরদিকে বিএসএফের পক্ষে নিউ উদয় কোম্পানি কমান্ডার এসি অনিল কুমারের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল।
দুই দেশের সীমান্তের মেইন পিলার ১৫৪/০৭ এস সংলগ্ন ভারতের চাইডোবা মাঠে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট থেকে ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত পতাকা বৈঠক চলে। বৈঠকে বিজিবি বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিক পুশইনের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার দাবি জানায়।
পরিচয় যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণিত হলে বিএসএফ তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয় এবং পরবর্তীতে সবাইকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে বিজিবি-৪৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, “সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের পুশইনের চেষ্টা হলে বিজিবির টহলরত সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে তা প্রতিহত করে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে এবং সবাইকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।”
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে।