1. arifmolla2007@gmail.com : Arif Mollah : Arif Mollah
  2. hmonir19799@gmail.com : Hossain Monir : Hossain Monir
  3. rtbdnews@gmail.com : RT BD NEWS : RT BD NEWS
  4. info@www.rtbdnews.com : RT BD NEWS :
বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পদ্মা সেতুতে স্বস্তির ঈদযাত্রা, মাওয়া প্রান্তে বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের চাপ পাটগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনা: ঈদে বাড়ি ফেরার পথে একই পরিবারের ৩ জন নিহত ঈদের ছুটিতেও সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দাপ্তরিক কাজ অব্যাহত বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ ২০২৬: সূচি ঘোষণা, বিশ্বকাপের পথে বড় পরীক্ষা টাইগারদের কীভাবে বেঁচে গেলেন মোজতবা খামেনি—টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, ২৫টি উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য ইসরায়েলের ডিমোনা পারমাণবিক চুল্লি: গোপনে অর্থায়ন করেছিল জার্মানি হরিণাকুন্ডুতে অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ, শাড়ি ও লুঙ্গি পেলেন শতাধিক পরিবার কাহারোল থেকে দেশব্যাপী নদী-নালা ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মুন্সীগঞ্জে বন্ধুদের সঙ্গে নদীতে গোসল করতে নেমে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

জামালপুরে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর চাপ, হাসপাতালে শয্যা সংকট

জাকিরুল ইসলাম বাবু, জামালপুর
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬
ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে জামালপুরে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকট, এক বিছানায় তিন শিশুকে রেখে চিকিৎসা চলছে।

জামালপুরে ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে পুরো জেলায় শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যায় কাহিল হয়ে পড়েছে। শীত থেকে রক্ষা পেতে আগুন পোহাতে গিয়ে সরিষাবাড়িতে শতবর্ষী বৃদ্ধা মরিয়ম বেওয়ার মৃত্যু হয়েছে।

অপরদিকে চিকিৎসকরা বলছেন, “শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি। শীতের তীব্রতা আরো বাড়লে রোগীর সংখ্যাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।”

এ ছাড়া হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি বেশিরভাগ শিশুই নিউমোনিয়া, ঠান্ডা-জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। হাসপাতালের শয্যা সংকটের কারণে এক বিছানায় তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

শীতের প্রকোপে সবচেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সর্দি, কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

এদিকে শীতের প্রভাব পড়েছে কৃষিতেও। বোরো ধানের বীজতলা ও শীতকালীন সবজি ক্ষেত রক্ষায় কৃষকরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন। তবে কুয়াশার কারণে রোদ না পাওয়ায় কিছু সবজি ক্ষেতে রোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শীত মোকাবিলায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, শীত আরও বাড়লে নিম্ন আয়ের মানুষদের দুর্ভোগ আরও তীব্র হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে।

জামালপুর সদর উপজেলার ইউএনও নাজনীন আখতার জানান, কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও ঠান্ডা-জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে মোট ৬২৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। ঠান্ডা-জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি থাকা শিশুর সংখ্যা ১২৭ জন। ২৪ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ৮৩ জন এবং ৩২ শয্যার শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ৪৪ জন শিশু রয়েছে। ফলে দেখা যাচ্ছে, শিশু ওয়ার্ডের নির্ধারিত শয্যার প্রায় তিনগুণ রোগী ভর্তি রয়েছে।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে প্রতি বিছানায় দুই থেকে তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশেই তাদের অভিভাবকরা দাঁড়িয়ে বা বসে অবস্থান করছেন। মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোতেও জায়গার অভাবে অনেক রোগী বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

শিশু খাদিজার মা হ্যাপি বেগম বলেন, “ছয় দিন আগে আমার মেয়ের ঠান্ডা-জ্বর শুরু হয়। এলাকায় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ানোর পরও ভালো না হয়ে বমি শুরু হয়। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি করাই। এখন আগের তুলনায় অনেকটাই ভালো আছে। শীত পড়ার পর থেকেই এই সমস্যা শুরু হয়েছে।”

জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার মুখশিমলা এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, “সর্দি-কাশিতে আমার পাঁচ মাস বয়সী নাতনি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে। প্রথমে ইসলামপুর হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম, পরে জামালপুর হাসপাতালে ভর্তি করি। গত দুই দিন ধরে হাসপাতালে আছি। এক বিছানায় দুই-তিনজন করে বাচ্চা রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বাচ্চার সঙ্গে থাকার মতো জায়গা না থাকায় খুব কষ্টে আছি।”

জামালপুর জেলা শহরের লাঙ্গলজোড়া এলাকার বাসিন্দা রাজিয়া বেগম বলেন, হাসপাতালে আনার পর কোনো সিট পাইনি। নিচে বিছানা পেতে ছেলের চিকিৎসা নিচ্ছি। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মাথা ফুলে গিয়েছিল। গত কয়েকদিন ধরে শীত বেড়েছে, তখন থেকেই রোগ শুরু হয়েছে।

হাসপাতালের নার্স সাদিয়া আক্তার বলেন, প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শিশু ওয়ার্ডে বেশিরভাগই ঠান্ডা-জ্বরে আক্রান্ত শিশু। এত রোগী একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, প্রতিবছর শীতকালে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এ বছরও শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শিশুদের জন্য বর্তমানে দুইজন মেডিকেল অফিসার ও একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট চিকিৎসক রয়েছেন। আমরা চিকিৎসক ও জায়গা, দুই সংকটেই ভুগছি। ফলে সেবা দিতে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।

এদিকে জামালপুরে সপ্তাহকাল ধরে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা মিলছে না। মঙ্গলবার রাতে জেলায় রাতের তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।

বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, গত কয়েক দিন ধরে বয়ে যাওয়া হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় প্রচণ্ড শীতে জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কম্বল বিতরণ করা হলেও আরও অনেক জায়গায় শীতার্তদের মাঝে কম্বলের চাহিদা রয়েছে।

জামালপুরের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, জেলায় সাড়ে সাত হাজার কম্বল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব কম্বল উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 𝑹𝑻 𝑩𝑫 𝑵𝑬𝑾𝑺 আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট