
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক নৌপথেও। এরই মধ্যে পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ নিরাপদে বের হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সৌদি আরব থেকে সার বোঝাই করা জাহাজটি গন্তব্য পরিবর্তন করে এখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর বিএসসি ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমডোর মাহমুদুল মালেক। ‘বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের বর্তমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই সভায় তিনি জাহাজটির বর্তমান অবস্থান ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
তিনি জানান, এর আগে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করলেও বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঝুঁকির কারণে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় গিয়ে নোঙর করতে বাধ্য হয়। বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা বিবেচনায় নিয়ে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি কমিয়ে এবার নতুন পরিকল্পনায় জাহাজটি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, যেখানে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। চলমান সংঘাতের কারণে এই পথ এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
মতবিনিময় সভায় বিএসসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরেন কমডোর মাহমুদুল মালেক। তিনি জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সংস্থাটির বহরে নতুন করে আরও তিনটি জাহাজ যুক্ত হবে। বর্তমানে বিএসসি ‘ওয়ান শিপ পলিসি’ অনুসরণ করছে, যার আওতায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর একটি করে জাহাজ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিএসসির সক্ষমতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হবে।
সব মিলিয়ে, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটির নিরাপদে ফিরে আসা এখন দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে বিএসসির বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনা দেশের সামুদ্রিক খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।