
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন চাঁদা দাবির অভিযোগের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ড। রোববার (০৩ মে) সকাল ১১টায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সংলগ্ন দলিল লেখকদের কার্যালয়ে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে ছড়ানো চাঁদা আদায়ের খবর সম্পূর্ণ ভুয়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব আজিজুল লস্কর বলেন, একটি মহল সংগঠনের নাম ব্যবহার করে মিথ্যা লিফলেট ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব লিফলেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন পত্রিকায় ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি জানান, ওই লিফলেটে জমি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে প্রতি লাখে অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দলিল লেখকরা কেবল প্রতি দলিলের জন্য নির্ধারিত পারিশ্রমিক হিসেবে দুই হাজার টাকা গ্রহণ করেন। এর বাইরে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় না এবং ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে না।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংগঠনের আহ্বায়ক ফারুক হোসেন বলেন, দলিল লেখকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে এবং তাদের দুঃসময়ে সহায়তা দিতে প্রায় দুই মাস আগে এই সংগঠন গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার প্রায় ৮০ জন দলিল লেখকের মধ্যে ৬০ জন ইতোমধ্যে এই ফান্ডের সদস্য হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, দলিল লেখকদের পারিশ্রমিকের একটি অংশ কল্যাণ ফান্ডে জমা রাখা হবে, যা ভবিষ্যতে সদস্যদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সদস্যের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ফারুক হোসেন জোর দিয়ে বলেন, সংগঠনটি কোনোভাবেই জমি ক্রেতা বা বিক্রেতার কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করে না। একটি মহল সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করছে। এমনকি কিছু রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানান সংগঠনের নেতারা।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র দলিল লেখক আব্দুস ছাত্তার, রঞ্জন কুমার, কওছার আলী, রেজাউল ইসলাম, নজরুল ইসলাম ও আমজাদ হোসেনসহ অন্যান্য সদস্যরা।
এ ঘটনায় কালীগঞ্জে দলিল লেখকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও তারা সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।