যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ থামাতে বড় অগ্রগতি, আসতে পারে ইতিবাচক ঘোষণা
আরটি বিডিনিউজ অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত:
রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের মধ্যেই বড় ধরনের ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি জানিয়েছেন, “আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ব একটি ভালো খবর পেতে পারে।”
রোববার (২৪ মে) দেওয়া এক বক্তব্যে মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছে। তার এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন ৬০ দিনের একটি বর্ধিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।
আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য এই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবার সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি তেল পরিবহন হয়। ফলে এটি সচল হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় স্বস্তি ফিরতে পারে।
সম্ভাব্য সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালিতে স্থাপন করা মাইন অপসারণ করবে এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে। পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অবরোধও তুলে নেওয়ার আলোচনা চলছে, যাতে ইরান পুনরায় স্বাভাবিকভাবে তেল রপ্তানি করতে পারে।
প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তিতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো যেতে পারে। এই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ধরনের অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে বলে জানা গেছে।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে অঙ্গীকার করবে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখার বিষয়ে আলোচনা চালাবে। এছাড়া লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও এই চুক্তির অংশ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে এখন পর্যন্ত ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির বিস্তারিত নিশ্চিত করেনি। তেহরান শুধু জানিয়েছে, তারা একটি সমঝোতার কাছাকাছি রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এই চুক্তি মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের “কাজের বিনিময়ে সুবিধা” নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ ইরান যত দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ নেবে, তত দ্রুত তাদের জন্য অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুবিধা উন্মুক্ত করা হবে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে এই চুক্তির কয়েকটি শর্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে লেবানন ইস্যুতে তার আপত্তি রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সম্ভাব্য এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বিস্তার সাময়িকভাবে ঠেকাতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমানো এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রেও এটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।